শবাসনের গুরুত্ব ও প্রভাব (পাঠ ৬)

নিত্যকর্ম ও যোগাসন - হিন্দুধর্ম শিক্ষা - ষষ্ঠ শ্রেণি | NCTB BOOK

230

শরীর শিথিলকরণ বা বিশ্রামের জন্য শবাসন যোগসাধনার একটি উপযুক্ত আসন। এতে সম্পূর্ণ শরীরে সুস্থবোধ হয়, স্নায়ুমণ্ডলী ও শিরা উপশিরাগুলো সম্পূর্ণ বিশ্রাম পায়, শরীর ও মনের সমস্ত ক্লান্তি দূর হয়ে যায়। ফলে শরীর, মন, মস্তিষ্ক এবং আত্মা পূর্ণ বিশ্রাম, শক্তি, উৎসাহ ও আনন্দ লাভ করে।
মানসিক টেনশন, বেশি বা কম রক্তচাপ, হৃদরোগ, পেটে গ্যাস, ডায়াবেটিস প্রভৃতি রোগ উপশমের ক্ষেত্রে শবাসন উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখে। আধুনিক যন্ত্রসভ্যতার পীড়নে মানুষের স্নায়ুর উপর প্রচন্ড চাপ পড়ে, সেই চাপের সর্বোত্তম প্রতিষেধক শবাসন। অনিদ্রার জন্য এই আসন সর্বোত্তম। রাতে ঘুমাতে যাওয়ার পূর্বে ৫-৭ মিনিট বা তার বেশি এই আসন করে আস্তে আস্তে বিছানায় গিয়ে শুয়ে পড়লে কিছুক্ষণের মধ্যেই ঘুম আসে। শরীর শিথিল করে দিয়ে বিশ্রাম করার এই কৌশল আয়ত্ত করলে ঘুমকেও জয় করা যায়। ছাত্র-ছাত্রীদের পরীক্ষার সময় আসনটি মানসিক চাপ কমাতে খুবই সহায়তা করে। অত্যধিক পড়াশুনার পর এই আসনে কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিলে অবসাদ, ক্লান্তি দূর হয়, নতুন উদ্যম ফিরে আসে, স্মৃতি শক্তিও বৃদ্ধি পায়। সাধকেরা এই আসনের সাহায্যে যোগনিদ্রা আয়ত্ত করে উচ্চস্তরের অনুভূতির রাজ্যে প্রবেশ করতে পারেন। এই আসনে ধ্যানের স্থিতির বিকাশ হয়। যে কোনো আসন অনুশীলনের পর শবাসনে বিশ্রাম নিতে হয়। আমরা যতক্ষণ একটি আসনের ভঙ্গিমায় থাকি তখন যতটা উক্ত আসনের উপকারিতা লাভ করি তার চেয়ে অনেক বেশি উপকৃত হই আসন অভ্যাসের পর শবাসন করে।

দলীয় কাজ: শবাসনের উপকারিতা লিখে একটি পোস্টার তৈরি কর।

নতুন শব্দ: নিশ্চল, নিঃসাড়, শিথিল, উপশম, পীড়ন, প্রতিষেধক, উদ্যম, যোগনিদ্রা।

Content added By
Promotion

Are you sure to start over?

Loading...